×
×
Sunday, 26 July, 2026, 2:50 am


ভিএআরের বিতর্কে আর্জেন্টিনার জয়: মিশরের গোল বাতিল কেন, আর্জেন্টিনার গোল কেন বৈধ?

ভিএআরের সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্বে বিতর্ক, মিশরের কোচের অভিযোগ “বিচারহীনতার শিকার হয়েছি আমরা”

মাত্র ১১ মিনিটে তিন গোল। রক্ষী থেকে আক্রমণে রূপান্তর। শেষ নিঃশ্বাসে বাঁচা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা যা দেখাল, তাকে ‘অলৌকিক’ বলাই যায়। কিন্তু এই রোমাঞ্চের গল্পের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে বিতর্ক, যা ভিএআর এর ব্যবহার ও প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মিশরের মাটিকাঁপানো একটি গোল বাতিল হয়ে যায় ভিএআর পর্যালোচনায়; অন্যদিকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহামেদ সালাহ-এর উপর সম্ভাব্য ফাউল উপেক্ষা করা হয়। এই দুই সিদ্ধান্তই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয় এবং বিতর্কের ঝড় তোলে ।

আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে মিশরকে প্রথমে এগিয়ে যেতে দেখে অনেকে ভেবেছিলেন, এই হয়তো বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক হতে চলেছে। ইয়াসের ইব্রাহিমের ১৫ মিনিটের গোলে এগিয়ে থাকা মিশর দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর অসাধারণ গোলে ব্যবধান ২-০ করার স্বপ্ন দেখছিল । কিন্তু স্বপ্ন ভেঙে যায় ভিএআরের হাতে।

গোলটি বাতিলের কারণ ছিল ম্যারওয়ান আত্তিয়ার ফাউল। ভিএআর রিপ্লেতে দেখা যায়, মিশরের মিডফিল্ডার আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি টেনেছেন এবং পায়ে পা দিয়ে ফাউল করেছেন। রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ভিএআর রিভিউ করে সিদ্ধান্ত নেন, এই ফাউল থেকেই মিশরের আক্রমণ শুরু হয়েছিল, তাই গোলটি বৈধ নয় । ফক্স স্পোর্টসের সকার বিশেষজ্ঞ ড. জো ম্যাকনিকের মতে, “আক্রমণ পর্বে ফাউল হলে গোল বাতিলযোগ্য” ।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তের সঙ্গেই শুরু হয় বিতর্ক। ফাউলটি হয়েছিল গোলের প্রায় ১০০ গজ দূরে, প্রায় ২১ সেকেন্ড আগে । ফক্স স্পোর্টসের বিশ্লেষক রব গ্রিন এত দূরের ঘটনার জন্য ভিএআর ব্যবহারকে “অতিরিক্ত” বলে অভিহিত করেন । ইএসপিএন এর ধারাভাষ্যকার ইয়ান ডার্কের কটাক্ষ, “ভিএআর কি প্লে শুরু থেকেই রিভিউ করবে?” ।

এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে, যখন আর্জেন্টিনা জয়সূচক গোল করে। গোলের আগে মিশরের অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ আর্জেন্টিনার বক্সে ফাউলের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। আইটিভির পণ্ডিত ও সাবেক ইংলিশ ফুটবলার ইয়ান রাইট তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “যদি এত দূরের ফাউলের জন্য গোল বাতিল করতে হয়, তাহলে সালাহ এর ওপর ফাউলের জন্যও তা করতে হতো। তাকে পা ছুঁয়েছে, এটা সামান্যই হোক না কেন, এরপর অন্য প্রান্তে গোল হয়েছে” । তার সহ-পণ্ডিত গ্যারি নেভিলের মন্তব্য, “আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন হলে গোল বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম” ।

এই দুই সিদ্ধান্তের বৈপরীত্য স্পষ্ট। সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি গ্রাহাম স্কট দি অ্যাথলেটিক-এ বিশ্লেষণে বলেছেন, “মিশরের গোল বাতিল করার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। এটি স্বাভাবিক ফুটবল যোগাযোগ ছিল, ফাউল ছিল না। ভিএআরের এখানে হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না” । তিনি আরও বলেন, “সালাহ-এর ক্ষেত্রেও ফাউলের প্রমাণ নেই, কিন্তু ইনকনসিস্টেন্সি সমস্যার” ।

ম্যাচ শেষে হতাশা চরমে মিশরের খেলোয়াড় ও কোচের। জিকো বলেন, “রেফারির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায় ছিল। তিনি আমাদের পুরো প্রচেষ্টা নষ্ট করেছেন। এই টুর্নামেন্ট সাজানো, আর্জেন্টিনাকে ট্রফি দেওয়ার জন্যেই” । কোচ হোসাম হাসানও একই সুরে বলেন, “আমরা বেহায়ালি ও অন্যায়ের শিকার হয়েছি” ।

এই বিতর্ক আবারও ফুটবলের বৃহত্তম টুর্নামেন্টে ভিএআর-এর ভূমিকা, সামঞ্জস্য এবং “স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল” এর সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মিশর হয়তো সুযোগ পেলে ইতিহাস গড়তে পারত, কিন্তু শেষমেশ ভিএআরের সিদ্ধান্তই তারা মনে রেখেছে ক্ষত হিসেবে ।

আরও