×
×
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ


ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি: সচেতন গ্রাহক ফোরামের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা, না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একইসঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

ছয় দফা দাবি কী কী?

বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী জানান, তাদের মূল দাবিগুলো হলো:

১. ইসলামী ব্যাংকের ‘অবৈধ’ চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমকে অপসারণ করতে হবে।
২. ব্যাংক থেকে যারা অর্থ লুটপাট ও পাচার করেছেন, তাদের কাছ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে।
৩. ব্যাংকের মালিকানা স্থায়ীভাবে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
৪. লুটপাটকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৫. ব্যাংকের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
৬. গ্রাহক স্বার্থে টেকসই ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

অধ্যাপক নুর উন-নবী বলেন, “আমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। আমরা আশা করছি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। যদি তা না হয়, তাহলে সারাদেশের তিন কোটি গ্রাহককে নিয়ে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”

পুলিশি বাধা ও প্রতিনিধি দলের স্মারকলিপি জমা

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় (দিলকুশা, মতিঝিল) থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যান আন্দোলনকারীরা। কিন্তু পল্টন মোড়ে পুলিশ মিছিলটি থামিয়ে দেয়। পরে ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলকে লিখিত স্মারকলিপি অর্থমন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

তবে আন্দোলনকারীরা পল্টন থেকে গুলিস্তান অভিমুখের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। দুপুর ১টার দিকে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সড়ক থেকে সবাইকে সরে যেতে বলা হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

এক সপ্তাহের বেশি ধরে টানা আন্দোলন

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। গত ১ জুন সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন থেকে আন্দোলন শুরু হয়। ওইদিন পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করলে বিক্ষোভ আরও বেগবান হয়।

কী ঘটেছিল ২৪ মে?

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। এরপর সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের পর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। আন্দোলনের চাপে গত ১ জুন রাতে ব্যাংকের ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হলেও চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আনা হয়নি।

পরবর্তী কর্মসূচি কী?

অধ্যাপক নুর উন-নবী স্পষ্ট জানান, “আজকের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামীকাল কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ডেকে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বাধ্য করেই চেয়ারম্যানের অপসারণ নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, সংগঠনটির সঙ্গে তিন কোটি গ্রাহক ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক, যার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ এ সংকটের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। তবে আপাতত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তারা।

আরও