×
×
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ


ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশে কঠোর বিধিনিষেধ- বাংলাদেশ ব্যাংক

পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার নিচে এমন ব্যাংক ২০২৬ সাল থেকে নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি।

দেশের ব্যাংক খাতে মূলধন শক্তিশালীকরণে কঠোর অবস্থান নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল শনিবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নগদ লভ্যাংশ বিতরণে নতুন শর্ত জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম, তারা ২০২৬ হিসাব বছর থেকে কোনো ধরনের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।

একইসঙ্গে নগদ ও স্টক লভ্যাংশের অনুপাতেও এনেছে নতুন নিয়ম। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই ব্যাংকগুলোর মূলধনভিত্তি আরও মজবুত করতেই এই নির্দেশনা বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, নগদ লভ্যাংশে কড়াকড়ি আরোপ করলে ব্যাংকগুলো তাদের মূলধন ধরে রাখতে সক্ষম হবে, যা ভবিষ্যতে কোনো আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

নতুন নিয়ম কী বলছে?

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ীঃ
· মূলধনের সীমারেখা: যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার নিচে, তারা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছর ও পরবর্তী বছরগুলোতে নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

· নগদ-স্টকের অনুপাত: বিদ্যমান সব শর্ত পূরণ করে যে ব্যাংকগুলো নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার উপযুক্ত হবে, তারা মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ হিসেবে বিতরণ করতে পারবে। বাকি অর্ধেক দিতে হবে স্টক লভ্যাংশ হিসেবে।

· কার্যকারিতার সময়: ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছর ও পরবর্তী হিসাব বছরগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণায় এই বিধি প্রযোজ্য হবে।

পূর্বের নির্দেশনাই বহাল থাকছে

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ জারি করা লভ্যাংশ-সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনা আগের মতোই কার্যকর থাকবে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপন সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বা কিছু ক্ষেত্রে কঠোরতর হয়েছে।

বর্তমান চিত্র কী?

২০২৫ হিসাব বছরের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আর্থিক সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপে এবার বেশির ভাগ ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পারেনি। বর্তমানে যে সব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দুই অঙ্কের ঘরে (অর্থাৎ মোট ঋণের ১০ শতাংশের বেশি), তারা লভ্যাংশ দেওয়ার যোগ্য নয়। একইভাবে মূলধন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে ঘাটতি থাকলেও লভ্যাংশ দেওয়া যায় না।

ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১৬টি ব্যাংক এবার লভ্যাংশ দিতে পেরেছে। বাকি ২০টি ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা?

নতুন নিয়ম ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য মিশ্র প্রভাব ফেলতে পারে। যেসব ব্যাংকের মূলধন কম, তাদের শেয়ারহোল্ডাররা নগদ লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হবেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলোর মূলধন শক্তিশালী হলে তা স্থিতিশীল লভ্যাংশ ও ব্যাংক খাতের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হবে বলছেন বিশ্লেষকরা।

স্টক লভ্যাংশের বাধ্যবাধকতা কিছু বিনিয়োগকারীকে হতাশ করলেও, এটি ব্যাংকগুলোর রিটেইন্ড আর্নিং বাড়াবে এবং ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়াবে।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের সীমা বর্তমানে অনেক ব্যাংকের জন্য পৌঁছানো কঠিন। বিশেষ করে পুরোনো ও ছোট খাতের ব্যাংকগুলো নতুন বিনিয়োগকারী আনার মাধ্যমে মূলধন বাড়ানোর চেষ্টা করবে। তা না হলে তাদের জন্য নগদ লভ্যাংশ বন্ধ থাকার অর্থ শেয়ারবাজারে সেই ব্যাংকের শেয়ারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের একাংশ। তাদের মতে, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতেই এই কড়াকড়ি।

তবে শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পর্যাপ্ত নজরদারির কথাও বলছেন অনেকে।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

আরও