×
×
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ


খেলাপি ঋণে ব্যাংকমালিকদের বিলাসিতা নিয়ে ক্ষোভ অর্থমন্ত্রীর

অনিয়ম-দুর্নীতিতে বেসরকারি খাতকেও মুখ খুলতে হবে, বললেন অর্থমন্ত্রী; ব্যাংক খাতে বড় সংস্কারের ঘোষণা।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক নীতি সংলাপে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংক খাতের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ ও দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি বাণিজ্যমন্ত্রী কৌশলগত মজুত ও এআইভিত্তিক সরবরাহ শৃঙ্খলার ঘোষণা দিয়েছেন। জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে যাচ্ছে সরকার।

ব্যাংক মালিকদের ‘বিলাসী জীবনযাত্রা’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ অর্থমন্ত্রীর

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পোস্ট-আপ্রাইজিং ইকোনমি অ্যান্ড জিওপলিটিকস অব বাজেট, রেমিনিসিং দ্য লিগেসি অব এম সাইফুর রহমান’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ব্যাংক খাতের চিত্র তুলে ধরেন। এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীসহ অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ব্যাংকাররা অংশ নেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বেসরকারি খাতেরও কথা বলা দরকার। তাদের দায়িত্ব আছে। বেসরকারি খাত নিরাপদ দূরত্বে বসে থাকতে পারে না। কোন কোন জায়গায় সমস্যা হয়েছিল, কেন হয়েছিল সেগুলো আপনাদের বলতে হবে।”

খেলাপি ঋনে জর্জরিত একটি ব্যাংকের উদাহরণ টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, একটি ব্যাংকের মালিকপক্ষ তাঁর কাছে এসে জানিয়েছিলেন, ২ হাজার কোটি টাকা না পেলে তাদের ব্যাংক চলবে না যেখানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৬ শতাংশ। মালিক দাবি করেন, তারা তা ৫৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন।

অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, “একবার ভাবুন, কেমন মানসিকতা তাদের। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে দেশের ভেতরে ও বাইরে ব্যাংকের মালিকদের জীবনযাপন কেমন, তা আমরা সব জানি।”

দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদনই লুটপাটের মূল কারণ

ব্যাংক খাতের টাকা লুটপাটের পেছনে দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষার বড় দায় আছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে আর্থিক প্রতিবেদনের মান খুব খারাপ জায়গায় আছে। আর্থিক প্রতিবেদন যথাযথ না হলে পুরো হিসাবের আসল চিত্র প্রকাশ পায় না। ব্যাংকগুলো থেকে অর্থায়নের টাকা লুটপাটের জন্য কোনো না কোনোভাবে এই দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদনই দায়ী।”

পুঁজিবাজার ও ব্যাংক খাতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারের গঠনে বড় পরিবর্তন আসবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সেখানে কোনো রাজনৈতিক লোক নিয়োগ দেওয়া হবে না, বরং পেশাদার ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।”

একইসঙ্গে দেশের ব্যাংক খাতের মূলধন সংকট মেটাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা (আইএফসি) এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোকে যুক্ত করে ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিগত সময়ে ৬০-৭০ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এই খাতের জন্য বিশাল কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। ‘অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তার প্রতিফলন থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

আরও