×
×
Thursday, 29 October, 2026, 11:15 am


তীব্র গরমে স্বাস্থ্য সুরক্ষাঃ জনসচেতনতার জন্য একটি প্রতিবেদন

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই মানুষ অতিরিক্ত গরম, ভ্যাপসা আবহাওয়া ও তাপদাহের কারণে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরমে থাকলে শরীরে পানিশূন্যতা, হিট এক্সহসশন, এমনকি প্রাণঘাতী হিটস্ট্রোকও হতে পারে। শিশু, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, শ্রমজীবী মানুষ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে এই তীব্র গরমে সুস্থ থাকা সম্ভব।

পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত জরুরি

চিকিৎসকদের মতে, গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। তাই তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করতে হবে। দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা ভালো। শুধু পানি নয়, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ওরস্যালাইন কিংবা ফলের রসও শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত চা, কফি, কোমল পানীয় বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় শরীরকে আরও পানিশূন্য করতে পারে।

দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলা উচিত

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। শ্রমজীবী মানুষদের জন্য বারবার বিশ্রাম নেওয়া এবং ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরা দরকার

গরমে গাঢ় ও মোটা কাপড় শরীরে তাপ আটকে রাখে। তাই সুতির, ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক পরা স্বস্তিদায়ক। বাসার ভেতরেও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। দিনের বেলায় জানালার পর্দা টেনে রাখলে ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে।

খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি

অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবারের পরিবর্তে সহজপাচ্য ও পানিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া উচিত। তরমুজ, শসা, বাঙ্গি, টমেটো ও বিভিন্ন মৌসুমি ফল শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। অনেক চিকিৎসক হালকা খাবার ও ঘরে তৈরি তরল খাবারের পরামর্শ দেন।

হিটস্ট্রোকের লক্ষণ চিনতে হবে

অতিরিক্ত গরমে কারও মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বমি ভাব, জ্ঞান হারানো বা শরীর অত্যন্ত গরম হয়ে যাওয়া এসব হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগীকে ঠান্ডা স্থানে নিতে হবে, শরীরে পানি দিতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। হিটস্ট্রোক অবহেলা করলে প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও বয়স্ক মানুষের শরীর দ্রুত তাপমাত্রার প্রভাব অনুভব করে। তাই তাদেরকে দীর্ঘ সময় রোদে রাখা উচিত নয়। পর্যাপ্ত পানি পান করানো, হালকা পোশাক পরানো এবং নিয়মিত খোঁজ নেওয়া জরুরি। একা থাকা বয়স্ক মানুষদের প্রতি পরিবার ও প্রতিবেশীদের মানবিক নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতা ও মানবিক সহযোগিতাই হতে পারে সুরক্ষার পথ

তীব্র গরম শুধু অস্বস্তিই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা জরুরি। রাস্তায় শ্রমজীবী মানুষদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগ মানুষের কষ্ট অনেকটাই কমাতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “অতিরিক্ত গরমকে সাধারণ সমস্যা মনে না করে গুরুত্ব সহকারে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।”

[atn_photocard]
আরও