×
×
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ


২১ শতাংশ প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা ও আয় বৃদ্ধিতে শক্তিশালী অবস্থানে পূবালী ব্যাংক

দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অন্যতম পূবালী ব্যাংক চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ব্যাংকটির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২২৪ কোটি ২২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫০ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৮৫ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৯২৯ টাকা। ফলে বছরে ভিত্তিতে মুনাফায় একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।

আর্থিক সূচক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪২ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। একই সঙ্গে ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) উন্নীত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ৭৭ পয়সায়, যা ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।

অতীত আর্থিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, যার মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ছিল। ঐ বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস দাঁড়ায় ৮ টাকা ৩৮ পয়সা, যা আগের বছরের ৫ টাকা ৯৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত) থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এর আগে ২০২৪ হিসাব বছরে ব্যাংকটি ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করে, যার মধ্যে সমানভাবে ১২.৫০ শতাংশ নগদ ও ১২.৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই বছরে ইপিএস ছিল ৬ টাকা ৭৪ পয়সা, যেখানে আগের বছর তা ছিল ৬ টাকা ১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। একই সময়ে এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪৬ টাকা ৮ পয়সায়।

২০২৩ হিসাব বছরেও ব্যাংকটি ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করে, যার মধ্যে সমান অনুপাতে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ ছিল। ঐ বছরে ইপিএস ছিল ৬ টাকা ৭৬ পয়সা, যা আগের বছরের ৫ টাকা ৪৯ পয়সা থেকে উন্নীত হয়। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪৬ টাকা ৩৩ পয়সায়।

আরও পেছনে গেলে দেখা যায়, ২০২২ হিসাব বছরে ব্যাংকটি ১২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে এবং সে বছরে ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা, যা আগের বছরের ৪ টাকা ২৩ পয়সার তুলনায় বেশি। একই সময়ে এনএভিপিএস ছিল ৪১ টাকা ৯৬ পয়সা।

ঋণমানের দিক থেকেও ব্যাংকটির অবস্থান শক্তিশালী। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল) ব্যাংকটিকে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ রেটিং প্রদান করেছে। ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত এবং ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক তথ্যসহ অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত সূচকের ভিত্তিতে এ রেটিং নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির দিক থেকেও পূবালী ব্যাংকের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৮৪ সালে তালিকাভুক্ত এই ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩০১ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংকটির রিজার্ভে রয়েছে ৪ হাজার ২৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩০ কোটি ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৬৯।

শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট শেয়ারের ৩১.৮৭ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের দখলে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৪.৯০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশ খুবই সামান্য—০.০৫ শতাংশ, এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে বাকি ৪৩.১৮ শতাংশ শেয়ার।

সার্বিকভাবে, ধারাবাহিক মুনাফা বৃদ্ধি, শক্তিশালী ইপিএস এবং আকর্ষণীয় লভ্যাংশ নীতির মাধ্যমে পূবালী ব্যাংক তার আর্থিক ভিত্তি আরও সুসংহত করছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

আরও