×
×
Tuesday, 28 July, 2026, 3:23 am


পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থসংকটঃ নতুন পথ খুঁজছে সরকার

ঢাকা: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) নিয়ে আলোচনা আবারও জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন মাসে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিতব্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেই এই নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা আসতে পারে। তবে পুরো সুবিধা একযোগে না দিয়ে কয়েকটি ধাপে তা কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

অধিবেশন শুরু ৭ জুন

আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। ইতোমধ্যে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ওই অধিবেশনেই অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। বাজেট বক্তৃতায় নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা এবং এর বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আভাস মিলেছে।

বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কিন্তু সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান। এ কারণেই একবারে সব সুবিধা চালু না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক প্রস্তুতি অনুযায়ী, আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ নিয়ে কাজ চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন আংশিক বৃদ্ধি করা হতে পারে। পরবর্তী ধাপে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর পুরো সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

সুবিধাভোগী কেউ কেউ

নতুন পে-কমিশনের আওতায় প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রায় ৯ লাখ পেনশনার (অবসরভোগী) আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে জানা গেছে।

চাকরিজীবীদের দাবি

সরকারি চাকরিজীবীদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চাপে রয়েছেন। তারা দ্রুত জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো

নিচে প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক সম্ভাব্য বেতনের তালিকা দেওয়া হলো। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।

গ্রেড প্রস্তাবিত বেতন স্কেল (টাকা)
গ্রেড-১ ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)
গ্রেড-২ ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০
গ্রেড-৩ ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০
গ্রেড-৪ ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০
গ্রেড-৫ ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০
গ্রেড-৬ ৭১,০০০–১,৩৪,০০০
গ্রেড-৭ ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০
গ্রেড-৮ ৪৭,২০০–১,১৩,৭০০
গ্রেড-৯ ৪৫,১০০–১,০৮,৮০০
গ্রেড-১০ ৩২,০০০–৭৭,৩০০
গ্রেড-১১ ২৫,০০০–৬০,৫০০
গ্রেড-১২ ২৪,৩০০–৫৮,৭০০
গ্রেড-১৩ ২৪,০০০–৫৮,০০০
গ্রেড-১৪ ২৩,৫০০–৫৬,৮০০
গ্রেড-১৫ ২২,৮০০–৫৫,২০০
গ্রেড-১৬ ২১,৯০০–৫২,৯০০
গ্রেড-১৭ ২১,৪০০–৫১,৯০০
গ্রেড-১৮ ২১,০০০–৫০,৯০০
গ্রেড-১৯ ২০,৫০০–৪৯,৬০০
গ্রেড-২০ ২০,০০০–৪৮,৪০০

প্রেক্ষাপট

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল চালু হয়। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটবার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও রাজস্ব চাপে সেই প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়।

নতুন প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুতের কাজ করছে।

আরও