×
×
Monday, 27 July, 2026, 6:20 am


অজ্ঞতা থেকে দূরে থাকাঃ কুরআনের শিক্ষা ও আত্মসমালোচনার প্রয়োজন

মানবজীবনের পথচলায় জ্ঞান ও অজ্ঞতার দ্বন্দ্ব চিরন্তন। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে এমন এক নৈতিক মানদণ্ড শিখিয়েছেন, যা তাদের আচরণ, চিন্তা ও প্রতিক্রিয়াকে সুষম ও পরিশীলিত করে তোলে। এই শিক্ষার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় সূরা আল-কাসাসের ৫৫ নম্বর আয়াতে:

*“আর তারা যখন অনর্থক কথা শোনে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে আমাদের জন্য আমাদের আমল, আর তোমাদের জন্য তোমাদের আমল। তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমরা মূর্খদের সাথে জড়াতে চাই না।’* (সূরা ২৮:৫৫)

এই আয়াতে মুমিনদের চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে, তারা অনর্থক ও অর্থহীন কথাবার্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখে। এখানে *“মূর্খদের সাথে জড়াতে চাই না”* কথাটি কোনো অহংকারের প্রকাশ নয়; বরং এটি একটি নৈতিক অবস্থান, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে বিরোধ, কটুক্তি ও অনর্থক বিতর্ক থেকে সংযত রাখে।

তবে এই আয়াতের গভীর তাৎপর্য উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে একটি সূক্ষ্ম সতর্কতা জরুরি। অনেক সময় আমরা এই ধরনের আয়াত পড়ে অন্যদেরকে সহজেই *“মূর্খ”* হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করি। এখানেই লুকিয়ে আছে আত্মপ্রবঞ্চনার ঝুঁকি। কারণ, অন্যকে ছোট ভাবার এই প্রবণতায় নিজেই এক ধরনের অজ্ঞতার লক্ষণে পরিণত হতে পারি।

শয়তানের অন্যতম কৌশল হলো আমাদের সৎকর্মের আড়ালে গোপনে বিভ্রান্ত করা। যখন একজন ব্যক্তি মনে করতে শুরু করে যে সে অন্যদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী বা সঠিক পথে রয়েছে, তখন তার অন্তরে অহংকারের বীজ বপন হতে পারে। এই অহংকার ধীরে ধীরে তার আত্মসমালোচনার ক্ষমতাকে ক্ষীণ করে দেয়, এবং সে নিজেই অজ্ঞতার গভীরে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে যদিও বাহ্যিকভাবে সে নিজেকে সঠিক মনে করে।

এজন্যই মুমিনের জন্য প্রয়োজন দ্বিমুখী সতর্কতা, একদিকে যেমন অনর্থকতা ও মূর্খতা থেকে দূরে থাকা, অন্যদিকে নিজের অন্তরের অবস্থাও নিয়মিত পর্যালোচনা করা। প্রশ্ন করা: *“আমি কি সত্যিই সঠিক বুঝছি, নাকি আমি নিজের অহংকারের ফাঁদে পড়ছি?”*

এই আত্মজিজ্ঞাসাই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে বিনয়ী করে তোলে। সে বুঝতে শেখে, জ্ঞান কেবল তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি হৃদয়ের পরিশুদ্ধতা, বিনয় এবং আল্লাহভীতির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

এই আয়াত আমাদেরকে শুধু অন্যদের সাথে আচরণের দিকনির্দেশনা দেয় না; বরং আমাদের নিজের অন্তরকেও আয়নার সামনে দাঁড় করায়। আমরা যেন এই আয়াত থেকে বাহ্যিক প্রশান্তির পাশাপাশি অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করতে পারি এটাই প্রকৃত সফলতা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শয়তানের সূক্ষ্ম চক্রান্ত থেকে হেফাজত করুন এবং সত্যকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন।

“*রব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দোয়া”*

আরও