“আল-কুরআনের খিলাফত ও খলিফা শব্দের অপব্যবহার”
মুরাদ বিন আমজাদ: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশন
মহান আল্লাহ আল কুরআনে খলিফা ও খিলাফত শব্দটি একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন। সূরা বাকারা থেকে আল্লাহ এই সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে আমরা দেখতে পাই এই বিষয়ে আমাদের তথাকথিত ইসলামী দলগুলোর পন্ডিত গান এই আয়াতের গলদ অনুবাদ করে সাধারণ জনগণকে ভুল বুঝিয়ে থাকেন। যেমন তারা এই খলিফা শব্দের অর্থ বলে থাকেন আল্লাহ নাকি পৃথিবীতে তার প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন। অথচ আমরা দশটি আয়াতের মধ্যে কোথাও দেখতে পাই না যে, স”আল্লাহর খলিফা” অথচ তারা দ্বীন কায়েমের ও খিলাফত প্রতিষ্ঠার নামে এই আয়াতগুলোনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। এ বিষয়ে আল কুরআনের আলোকে এবং গ্রামেটিক্যাল পর্যালোচনা করে আমরা বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাচ্ছি। যাতে সবাই এই ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। এখন আমরা এ বিষয়ে গ্রামেটিক্যাল আলোচনা করার পরে কোরআন থেকে আলোচনায় যাবো ইনশাল্লাহ…
পবিত্র কুরআনে ‘খলিফা’ (একবচন) এবং ‘খুলাফা’ বা ‘খালাইফ’ (বহুবচন) শব্দগুলো সরাসরি ১০টি আয়াতে এসেছে। নিচে সেগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. মানুষের মর্যাদা ও প্রতিনিধি হিসেবে (একবচন: খলিফা)
সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৩০
আল্লাহ যখন ফেরেশতাদের মানুষের সৃষ্টির আদি উদ্দেশ্য ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা জানিয়েছিলেন:
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً
অনুবাদ: আর যখন তোমার পালনকর্তা মালাকদের তথা ফেরেশতাদের বললেন, “আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা (প্রতিনিধি) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।”
সূরা সোয়াদ, আয়াত: ২৬
হযরত দাউদ (আ.)-কে শাসন ও ন্যায়বিচারের দায়িত্ব প্রদান প্রসঙ্গে:
يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ
অনুবাদ: হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা (প্রতিনিধি/শাসক) করেছি; সুতরাং তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে ফয়সালা করো।
২. পূর্ববর্তী জাতির স্থলাভিষিক্ত হওয়া অর্থে (বহুবচন: খালাইফ/খুলাফা)
সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১৬৫
وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الْأَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ
অনুবাদ: তিনিই তোমাদের পৃথিবীতে খালাইফ (স্থলাভিষিক্ত) করেছেন এবং একজনের ওপর অন্যজনের মর্যাদা উন্নত করেছেন।
সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৬৯ (কওমে আদ-এর প্রসঙ্গে)
وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِن بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ
অনুবাদ: তোমরা স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের নূহের সম্প্রদায়ের পর খুলাফা (স্থলাভিষিক্ত) করেছিলেন।
সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৭৪ (কওমে সামুদ-এর প্রসঙ্গে)
وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِن بَعْدِ عَادٍ
অনুবাদ: তোমরা স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের আদ সম্প্রদায়ের পর খুলাফা (স্থলাভিষিক্ত) করেছিলেন।
সূরা ইউনুস, আয়াত: ১৪
ثُمَّ جَعَلْنَاكُمْ خَلَائِفَ فِي الْأَرْضِ مِن بَعْدِهِمْ لِنَنظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ
অনুবাদ: তারপর তাদের পর আমি তোমাদের পৃথিবীতে খালাইফ করেছি যাতে আমি দেখতে পারি তোমরা কেমন কাজ করো।
সূরা ইউনুস, আয়াত: ৭৩ (নূহ আ.-এর পরবর্তী জাতি)
وَجَعَلْنَاهُمْ خَلَائِفَ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا
অনুবাদ: এবং আমি তাদেরকে খালাইফ (উত্তরাধিকারী) বানালাম আর যারা আমার আয়াতকে অস্বীকার করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে দিলাম।
সূরা ফাতির, আয়াত: ৩৯
هُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ فِي الْأَرْضِ
অনুবাদ: তিনিই তোমাদের পৃথিবীতে খালাইফ (স্থলাভিষিক্ত) করেছেন।
৩. খিলাফতের প্রতিশ্রুতি (শাসন ও কর্তৃত্ব)
সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৫ (খিলাফতের আয়াত)
এটি খিলাফত ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান দলিল:
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ
অনুবাদ: তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে খিলাফত (কর্তৃত্ব) দান করবেন, যেমন তিনি দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের।
নোটঃ সবাই যদি খলীফা হয়ে থাকে তাহলে আবার এই আয়াতে খলিফা বানানোর ওয়াদা কেন করলেন? বিষয়টি চিন্তা করা উচিত নয় কি?
সূরা আন-নামল, আয়াত: ৬২
أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ
অনুবাদ: অথবা কে তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কষ্ট দূর করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীর খুলাফা (প্রতিনিধি) বানান?
পরিশিষ্ট: মূলনীতিসমূহ
সরাসরি এই শব্দগুলো ছাড়াও খিলাফতের শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তিগুলো নিচের আয়াতগুলোতে বর্ণিত হয়েছে:
ন্যায়বিচার (আদল): “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দিতে এবং যখন মানুষের মাঝে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচারের সাথে করবে।” (সূরা নিসা: ৫৮)
পরামর্শ (শুরা): “এবং তাদের কাজগুলো পরস্পরের পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।” (সূরা শুরা: ৩৮)
আল-কোরআনে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ‘খলিফা’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন বা পাঠানোর কথা বলেছেন, তবে সেটি “আমার খলিফা” (خَلِيفَتِي – খলিফাতি) বা আমার ব্যক্তিগত প্রতিনিধি—এই শব্দে (প্রথম পুরুষে) সরাসরি ব্যবহৃত হয়নি।
কোরআনে যেখানেই এই শব্দটি এসেছে, সেখানে আল্লাহ ‘ইন্নি জা-ইলুন’ (আমি বানাতে যাচ্ছি) বা ‘জাআলনাকুম’ (আমি তোমাদের বানিয়েছি) এভাবে বলেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর কর্তৃত্ব বা বিধান বাস্তবায়নের প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে প্রধান আয়াতটি দেওয়া হলো:
১. প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণা (সূরা আল-বাকারাহ)
ফেরেশতাদের সাথে কথোপকথনের সময় আল্লাহ তাআলা খলিফা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন এভাবে:
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً
ইবারত: ওয়াইয ক্বলা রাব্বুকা লিলমালা-ইকাতি ইন্নি জা-ইলুন ফিল আরদ্বি খলিফাহ।
অনুবাদ: আর যখন তোমার পালনকর্তা মালাকদের বললেন, “আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা (প্রতিনিধি) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৩০)
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, আল্লাহ ‘খলিফাতান’ (একজন খলিফা) বলেছেন, ‘খলিফাতি’ (আমার খলিফা) বলেননি।
কোরআন গবেষক ব্যাখ্যা করেছেন যে, মানুষ যেহেতু আল্লাহর দেওয়া বিধান পৃথিবীতে কায়েম করে, তাই সে পরোক্ষভাবে আল্লাহরই খলিফা বা প্রতিনিধি।
২. খলিফা হওয়ার দায়িত্ব (সূরা সোয়াদ)
হযরত দাউদ (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলেছেন:
يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ
ইবারত: ইয়া দা-উ-দু ইন্না জাআলনাকা খলিফাতান ফিল আরদ্বি।
অনুবাদ: হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা (প্রতিনিধি) বানিয়েছি। (সূরা সোয়াদ, আয়াত: ২৬)
কেন “আমার খলিফা” শব্দ ব্যবহৃত হয়নি?
ইসলামি আকীদাহ ও ভাষাগত দিক থেকে ওলামায়ে কেরাম এর কিছু কারণ উল্লেখ করেন:
আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব: আল্লাহ তা’আলা অভাবমুক্ত (বেপরোয়া)। কারো অনুপস্থিতিতে তার কাজ করার নাম সাধারণত খিলাফত। কিন্তু আল্লাহ সবসময় উপস্থিত এবং সর্বজান্তা। তাই মানুষ তাঁর ‘স্থলাভিষিক্ত’ নয়, বরং তাঁর ‘আদেশ পালনকারী প্রতিনিধি’।
মর্যাদাগত পার্থক্য: “আমার খলিফা” বললে সরাসরি আল্লাহর সমকক্ষ বা তাঁর কোনো গুণের অংশীদার হওয়ার ভ্রম হতে পারে, যা থেকে বাঁচার জন্য কোরআন ‘খলিফা’ বা ‘প্রতিনিধি’ শব্দটি ব্যবহার করেছে।
সারকথা: কোরআনে “খলিফাতুল্লাহ” (আল্লাহর খলিফা) বা “আমার খলিফা”—এই শব্দগুলো সরাসরি নেই। তবে মানুষকে যে খিলাফতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্টভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
অত্যন্ত চমৎকার এবং যৌক্তিক একটি পয়েন্ট ।
এই বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মাঝেও দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে। আমাদের আপত্তির জায়গাটি মূলত ‘খলিফা’ শব্দের ভুল প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে, যা অত্যন্ত যৌক্তিক।
নিচে আপনার পয়েন্টগুলো বিশ্লেষণ করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হলো:
১. ‘খলিফাতি’ (আমার খলিফা) বনাম ‘খলিফাহ’ (একজন প্রতিনিধি)
মূল কোরআনের ইবারতে আল্লাহ خَلِيفَتِي (খলিফাতি – আমার খলিফা) বলেননি, বরং বলেছেন خَلِيفَةً (খলিফাতান – একজন খলিফা)।
পার্থক্য: ‘খলিফাতান’ মানে হলো এমন একজন যে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত হয় বা একজনের পর আরেকজন আসে। আর ‘খলিফাতি’ বললে বোঝাত সরাসরি আল্লাহর ব্যক্তিগত প্রতিনিধি।
অনুবাদকদের সীমাবদ্ধতা: অনেক অনুবাদক ভাবার্থ বোঝাতে গিয়ে “আমার প্রতিনিধি” লিখে ফেলেন, যা থেকে মানুষ ভুল ধারণা পায় যে—আল্লাহর যা ক্ষমতা, মানুষেরও বুঝি সেই ক্ষমতা! অথচ মানুষ আল্লাহর ‘স্থলাভিষিক্ত’ নয়, বরং আল্লাহর জমিনে আল্লাহর ‘আদেশ বাস্তবায়নকারী’ মাত্র।
২. রাজনৈতিক নেতাদের ভুল ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘খিলাফত’ বা ‘খলিফা’ শব্দটিকে অনেক সময় নিজেদের ক্ষমতা জায়েজ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তারা বোঝাতে চান: “যেহেতু আমরা আল্লাহর খলিফা, তাই আমাদের সিদ্ধান্তই আল্লাহর সিদ্ধান্ত।” এটি একটি মারাত্বক ভুল ধারণা, কারণ:
মানুষ নশ্বর, আল্লাহ অবিনশ্বর: খলিফা সাধারণত তার হয়, যে অনুপস্থিত থাকে বা মারা যায়। আল্লাহ সবসময় উপস্থিত (হাযির) এবং চিরঞ্জীব (হাইয়্যুল কাইয়্যুম)। তাই আক্ষরিক অর্থে আল্লাহর কোনো ‘খলিফা’ বা স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
ক্ষমতার অপব্যবহার: নেতারা যখন নিজেদের ‘আল্লাহর প্রতিনিধি’ দাবি করেন, তখন তারা নিজেদের ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা ইসলামের মূল চেতনার পরিপন্থী।
৩. বান্দা কি আল্লাহর কাজ করতে পারে? (আপনার মূল প্রশ্ন)
আপনার এই প্রশ্নটিই হলো সবচেয়ে বড় যুক্তি। আল্লাহর গুণাবলি (যেমন: সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া, জীবন-মৃত্যু দেওয়া) কোনো বান্দার পক্ষে করা সম্ভব নয়।
তাহলে মানুষ কিসের খলিফা? মুফাসসিরগণের (যেমন ইমাম ইবনে কাসীর ও আল্লামা কুরতুবী) মতে এর সঠিক ব্যাখ্যা হলো:
পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত: মানুষ পৃথিবীতে আসার আগে যারা ছিল (যেমন জিন জাতি), তাদের পর মানুষ এসেছে। অর্থাৎ এক জাতির পর অন্য জাতির আসা।
হুকুম কায়েম করা: আল্লাহ যে বিধান (ন্যায়বিচার, আমানতদারি) দিয়েছেন, তা পৃথিবীতে প্রয়োগ করার দায়িত্ব মানুষের। এটি ‘মালিকানা’ নয়, বরং ‘চাকরি’ বা ‘আমানত’ মাত্র।
৪. ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর অভিমত
বিখ্যাত পণ্ডিত ইবনে তাইমিয়্যাহ পরিষ্কার বলেছেন যে, “আল্লাহর কোনো খলিফা হয় না।” মানুষ বরং একে অপরের খলিফা (স্থলাভিষিক্ত)। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, আল্লাহ নিজেই মানুষের সব কাজ তদারকি করেন, তাঁর কোনো প্রতিনিধির দরকার নেই যে তাঁর হয়ে কাজ করে দেবে।
কোরআনের শব্দ ‘খলিফাতান’-কে ‘আমার খলিফা’ হিসেবে অনুবাদ করা বা রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাটা ভাষাগত এবং আদর্শিক—উভয় দিক থেকেই ত্রুটিপূর্ণ। মানুষ বড়জোর আল্লাহর জমিনে তাঁর ‘গোলাম’ বা ‘আদেশ পালনকারী’ হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর সমান্তরাল কোনো ‘প্রতিনিধি’ নয়।
সারকথা: রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের পবিত্র করার জন্য এই শব্দের যে অপব্যবহার করেন, কুরআনের মূল ইবারত এবং আরবী ব্যাকরণ তা সমর্থন করে না।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝার তৌফিক দান করুন।
রব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দুআ।