×
×
Thursday, 29 October, 2026, 11:00 am


পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে বড় শহর থেকে থেকে উপজেলা: গণপূর্তমন্ত্রী

আদমশুমারির তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা, ভবনের মান নিশ্চিতে সনদ ব্যবস্থা এবং মধ্যবিত্তের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি

পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে বড় শহর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছেন, কোথায় কী গড়ে উঠবে তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে জোনিংয়ের মাধ্যমে কাজ করা হবে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সাত মাস ধরে কাজ

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় গত সাত মাস ধরে নগর ও আবাসন খাতে একাধিক কাজ চলছে। অনুষ্ঠানে অংশীজনদের তোলা প্রস্তাবগুলো নিয়েও ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য, এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর (আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেট বা ইউডিডি)। প্রথমবারের মতো এই সংস্থা ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার আওতায় সারাদেশে কাজ করা হবে।

প্রথমে মেট্রোপলিটন সিটি, তারপর উপজেলা

মন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে মেট্রোপলিটন সিটিগুলোতে কাজ চলছে। পরবর্তী ধাপে বড় শহর থেকে শুরু করে একেবারে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান তৈরির বিষয়টি দেখা হবে।

জোনিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোথায় কী হওয়া উচিত, সেই অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক বিভাজন করা হবে। যেমন আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা আলাদাভাবে চিহ্নিত থাকলে নগরের ওপর অযাচিত চাপ কমে এবং সেবা প্রদান সহজ হয়।

পরিকল্পনার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি একটি উপমা দেন: মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া কাজ করা যেন একটি লক্ষ্যে চারটি তীর ছোড়ার মতো, যার কোনোটি লাগলেও লাগতে পারে।

জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র হবে পরিকল্পনার ভিত্তি

মন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র জানা জরুরি। সর্বশেষ আদমশুমারি অনেক আগে হয়েছে। তাই বর্তমান বাস্তবতার ভিত্তিতে আবাসন ও নগর পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। জনসংখ্যার তথ্যকে পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হালনাগাদ জনতথ্য ছাড়া সড়ক, গণপরিবহন, স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসনের চাহিদা নিরূপণ করা কঠিন। সেদিক থেকে মন্ত্রীর এই অবস্থান পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার একটি মৌলিক শর্তের দিকেই ইঙ্গিত করে।

ভবন নির্মাণে সমন্বিত ব্যবস্থা, মিলবে সনদ

ভবনের মান নিশ্চিত করার বিষয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, নকশা, কাঠামোগত বিষয়সহ সবকিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ার চেষ্টা চলছে।

– নকশা অনুমোদনের পর নির্মাণ শেষ হলে ভবনটি সঠিকভাবে নির্মিত হয়েছে কি না, তার সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

– যিনি ভবনের নকশা করেছেন, তাঁকেও ভবনটি যথাযথভাবে নির্মিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রত্যয়ন দিতে হবে।

এতে নকশা ও বাস্তবে নির্মিত ভবনের মধ্যে ফারাক কমবে এবং দায়বদ্ধতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ: পরিবর্তনের অঙ্গীকার

রাজধানীর অপরিকল্পিত নগরায়ণের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী স্বীকার করেন, ঢাকার অনেক এলাকায় পরিকল্পনা ও অনুমোদনের বাইরে ভবন নির্মাণ হয়েছে। এই বাস্তবতা বদলাতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশেই পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মধ্যবিত্তের জন্যও চাই সাশ্রয়ী আবাসন

আবাসন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি শুধু উচ্চবিত্ত বা ধনীদের জন্য নয়। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সরকার সে বিষয়ে কাজ করছে।

নিরাপদ ও বাসযোগ্য আবাসনই লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জাকারিয়া তাহের বলেন, দেশের সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর মতে, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

বিশ্লেষণ: কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ

বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। দ্রুত নগরায়ণের ফলে যানজট, জলাবদ্ধতা, উন্মুক্ত স্থান ও সবুজ এলাকা হ্রাস এবং ভবন নিরাপত্তার ঝুঁকির মতো সমস্যা প্রকট হয়েছে। এ অবস্থায় জোনিংভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান, জনতথ্যনির্ভর পরিকল্পনা এবং নির্মাণোত্তর সনদ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে নগরবিদদের মতে, ঘোষণার সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। এর জন্য প্রয়োজন হবে স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়, দক্ষ জনবল এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।

[atn_photocard]
আরও