×
×
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ


স্থিতিশীলতার পথে ইসলামী ব্যাংক: উত্তোলনের চেয়ে জমা বেশি, ফিরছে গ্রাহকদের আস্থা

আতঙ্ক কাটিয়ে ব্যাংকে ফিরছেন গ্রাহকরা; মেয়াদি আমানতের বিশেষ সুযোগে প্রথম দিনেই ৪৫ কোটি টাকা জমা, নগদ লেনদেনে উদ্বৃত্ত ১৬০ কোটি টাকা।

টাকার প্রবাহে ইতিবাচক ধারাঃ
গত কয়েক সপ্তাহের আতঙ্ক কাটিয়ে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে ফিরতে শুরু করেছেন গ্রাহকরা। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার নগদ উত্তোলনের চেয়ে জমা বেশি হয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। মেয়াদি আমানত সচলের বিশেষ সুযোগের প্রথম দিনেই বন্ধ হওয়া ৫০২টি হিসাবের বিপরীতে ৪৫ কোটি টাকা আবার জমা হয়েছে ।

সামগ্রিক লেনদেনের পরিসংখ্যানও আশাব্যঞ্জক। গতকাল ব্যাংকে এক হাজার ৫২০ কোটি টাকা নগদ জমার বিপরীতে উত্তোলন হয়েছে এক হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। যদিও আগের কয়েকদিন জমে থাকা অনলাইন লেনদেনের চাপে উত্তোলন বেশি ছিল ৪৩৬ কোটি টাকা, তবুও নগদ লেনদেনে ইতিবাচক ধারা ফিরেছে। গত রবি ও বৃহস্পতিবার যেখানে জমার তুলনায় উত্তোলন বেশি ছিল এক হাজার কোটি টাকার বেশি, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিকের পথে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা ও তার প্রভাব

ব্যাংকটির চলতি তরলতা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার আড়াই হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দেয়। তবে ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তোলনের চাপ কমে যাওয়ায় এই ধার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনি। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য ফিরে এসে বিধিবদ্ধ জমা সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং তারা দ্রুত এই ধার ফেরত দিতে সক্ষম হবেন।

পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি

এদিকে, ব্যাংকের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। গতকাল তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। সংগঠনটি সৎ, যোগ্য, পেশাদার এবং গ্রাহকদের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পর্ষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।

একইসঙ্গে, তারা সাবেক চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে অপসারণ করায় গভর্নরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গ্রাহক ফোরাম মনে করে, একটি স্বচ্ছ ও দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের মাধ্যমেই ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

পরিস্থিতির পটভূমি

উল্লেখ্য, গত ১ জুন থেকে আন্দোলন শুরুর পর গত রোববার পর্যন্ত জমার তুলনায় উত্তোলন বেশি হয়েছিল ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান ইতিবাচক ধারা ব্যাংকটির জন্য একটি বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক, যা বর্তমানে ৬২৩টি শাখার মাধ্যমে দেশব্যাপী ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে । দ্য ব্যাংকার ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে ২০১২ সাল থেকে টানা ৯ বছর বিশ্বের ১,০০০ শীর্ষ ব্যাংকের তালিকায় স্থান পাওয়া এই ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি যেমন উদ্বেগজনক ছিল, তেমনি এর স্থিতিশীলতা পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্যই ইতিবাচক সংকেত বহন করে ।

আরও