×
×
Friday, 30 October, 2026, 7:29 pm


১% বনাম ৯৯%: বৈষম্যের অর্থনীতি কীভাবে উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে?

আয় বাড়ছে, কিন্তু সবার জীবন কি সমানভাবে বদলাচ্ছে? সুযোগ, কর ও সম্পদের কেন্দ্রীভবনের প্রশ্নে নতুন করে ভাবার সময় এখনই

ঢাকার ব্যস্ত সড়কে সকাল শুরু হয় একজন পোশাকশ্রমিকের ঘাম দিয়ে। মাস শেষে তার হাতে আসে সীমিত বেতন। সেই একই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক বা শীর্ষ পর্যায়ের উদ্যোক্তার আয়-সম্পদের পরিমাণ তার তুলনায় অনেক গুণ বেশি হতে পারে।

ধরা যাক, একজন গার্মেন্টস শ্রমিক মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন। বিপরীতে একই কোম্পানির মালিক কোনো একদিনে ১২ লাখ টাকা মুনাফা করলেন এটি একটি কাল্পনিক উদাহরণ, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাস্তব হিসাব নয়। কিন্তু এই উদাহরণটি একটি বড় প্রশ্ন সামনে আনে দুজনই যদি অর্থনীতিতে অবদান রাখেন, তাহলে তাদের আয় ও সম্পদের ব্যবধান এত বিশাল কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু ব্যক্তিগত পরিশ্রম বা মেধার মধ্যে খুঁজলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। শিক্ষা, পুঁজি, সম্পদ, প্রযুক্তি, উত্তরাধিকার, করব্যবস্থা, ঋণের সুযোগ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার সব মিলিয়েই তৈরি হয় অর্থনৈতিক বৈষম্য।

বৈশ্বিক চিত্র: সম্পদের বড় অংশ কার হাতে?

বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও নীতিবিষয়ক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

Oxfam-এর ২০২৪ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ মানুষের হাতে বিশ্বের নিচের ৯৫ শতাংশ মানুষের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি সম্পদ রয়েছে। একই বিশ্লেষণে বলা হয়, বিশ্বের শীর্ষ ১ শতাংশের হাতে বৈশ্বিক আর্থিক সম্পদের প্রায় ৪৩ শতাংশ রয়েছে।

অন্যদিকে Oxfam-এর ২০২৪ সালের আরেক বিশ্লেষণ বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশের সম্পদে প্রায় ৪২ ট্রিলিয়ন ডলার নতুন সম্পদ যুক্ত হয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি বিভিন্ন সংস্থা ‘সম্পদ’, ‘আয়’, ‘আর্থিক সম্পদ’ এবং ‘জাতীয় আয়ের অংশ’ আলাদা পদ্ধতিতে পরিমাপ করে। তাই ৪৫ শতাংশ, ৪৩ শতাংশ বা অন্য কোনো সংখ্যা ব্যবহার করার আগে কোন সূচক এবং কোন বছরের তথ্য বোঝানো হচ্ছে, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে বৈষম্যের চিত্র কী বলছে?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) Household Income and Expenditure Survey HIES 2022 দেশের আয়বণ্টনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি তুলে ধরে।

HIES 2022 অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ পরিবার জাতীয় মোট আয়ের ৪০.৯২ শতাংশ পেয়েছে। বিপরীতে সবচেয়ে নিচের ১০ শতাংশের অংশ ছিল মাত্র ১.৩১ শতাংশ। একই জরিপে আয়-ভিত্তিক Gini coefficient ২০১৬ সালের ০.৪৮২ থেকে ২০২২ সালে বেড়ে ০.৪৯৯ হয়েছে।

অর্থাৎ ২০১৬ সালে যেখানে শীর্ষ ১০ শতাংশের আয়-অংশ নিচের ১০ শতাংশের তুলনায় প্রায় ১৯.৭৫ গুণ ছিল, ২০২২ সালের HIES-এর আয়-অংশ ব্যবহার করলে ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ৩১.২ গুণ।

এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। এর অর্থ হলো অর্থনীতিতে উৎপাদন ও আয় বাড়লেও সেই আয় সমাজের বিভিন্ন স্তরে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

তবে এটিও মনে রাখা দরকার, আয়বৈষম্য আর সম্পদবৈষম্য একই বিষয় নয়। জমি, বাড়ি, ব্যবসা, শেয়ার, সঞ্চয় বা অন্যান্য সম্পদের মালিকানা দিয়ে সম্পদবৈষম্য মাপতে হয়।

কেন বৈষম্য বাড়ে?

১. সুযোগের বৈষম্য

একজন শহরের শিক্ষার্থী হয়তো ভালো স্কুল, কোচিং, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, কম্পিউটার এবং নানা ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থীর কাছে একই সুযোগ সবসময় পৌঁছায় না।

শিক্ষার মানের পার্থক্য থেকে শুরু করে ডিজিটাল সুবিধা, ইংরেজি দক্ষতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নেটওয়ার্ক সবকিছু মিলেই ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাবনায় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

ফলে দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা একজন মেধাবী তরুণের সামনে বাধা শুধু অর্থের অভাব নয়; সুযোগের অভাবও।

২. কর কাঠামোর প্রশ্ন

করব্যবস্থা একটি দেশের আয়বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় VAT বা মূল্য সংযোজন করের মতো পরোক্ষ করের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে এবং প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ আছে।

তবে ‘ভ্যাট মানেই গরিবের ওপর বেশি বোঝা’ এমন সরল সিদ্ধান্তও সব পরিস্থিতিতে সঠিক নয়। কোন পণ্যে কত কর, দরিদ্র ও ধনী পরিবারের ভোগের ধরন কী এবং সরকার সেই রাজস্ব কীভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় করছে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়।

বাংলাদেশ নিয়ে ২০২৪ সালের একটি গবেষণা-ভিত্তিক নীতিপত্রে বলা হয়েছে, দেশের রাজস্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরোক্ষ উৎস থেকে আসে এবং পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থাৎ প্রশ্ন শুধু ‘কত কর নেওয়া হচ্ছে’ নয়; প্রশ্ন হলো কে কত দিচ্ছে এবং বিনিময়ে সমাজ কী পাচ্ছে।

৩. সম্পদের কেন্দ্রীভবন

যার কাছে জমি, মূলধন, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও ঋণের সুযোগ বেশি, তার জন্য নতুন সম্পদ তৈরি করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

অন্যদিকে যার শুরুই হচ্ছে শূন্য থেকে, তার জন্য একই বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।

এখানেই সম্পদ থেকে সম্পদ তৈরির একটি চক্র তৈরি হয়।

একটি পরিবার যদি ভালো সম্পদ উত্তরাধিকার হিসেবে পায়, সেই সম্পদ থেকে ব্যবসা করতে পারে, ব্যবসা থেকে আয় করতে পারে এবং সেই আয় দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে আরও ভালো শিক্ষা দিতে পারে তাহলে কয়েক প্রজন্মের মধ্যে পার্থক্য অনেক বড় হয়ে উঠতে পারে।

বৈষম্যের ক্ষতি কোথায়?

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু GDP বাড়লেই মানুষের জীবনমানের সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না।

একটি দেশের অর্থনীতি বড় হতে পারে, কিন্তু একই সময়ে যদি বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তায় পিছিয়ে থাকে, তাহলে উন্নয়নের সুফল নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বাংলাদেশের HIES 2022-এও আয়বণ্টনে উচ্চমাত্রার কেন্দ্রীভবনের চিত্র পাওয়া যায়।

মধ্যবিত্ত সংকুচিত হলে বাজারও দুর্বল হতে পারে

দেশের অর্থনীতিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা ও উদ্যোক্তা শক্তি।

একটি পরিবার যদি তার আয়ের বড় অংশ খাদ্য, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার পেছনে ব্যয় করে ফেলে, তাহলে সঞ্চয়, বিনিয়োগ কিংবা নতুন ব্যবসায় ব্যয়ের সুযোগ কমে যায়।

এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অভ্যন্তরীণ বাজার ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমেও পড়তে পারে।

তরুণদের বিদেশমুখিতা

যখন একজন তরুণ মনে করেন নিজের দেশে দক্ষতা অনুযায়ী কাজ, ন্যায্য আয় কিংবা উন্নতির সুযোগ সীমিত, তখন বিদেশে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়তে পারে।

বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস হলেও দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে সমাধানের পথ কী?

বৈষম্য কমানোর কোনো একক জাদুকরী সমাধান নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, করনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সবগুলো ক্ষেত্রকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

গ্রামীণ SME-তে বিনিয়োগ বাড়ানো

বড় শিল্প অবশ্যই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং প্রযুক্তি সহায়তা বাড়ানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে ‘৫০ হাজার টাকার ঋণে একজন উদ্যোক্তা তিনটি চাকরি তৈরি করেন, আর ৫ কোটি টাকার শিল্পে মাত্র একটি চাকরি হয়’ এ ধরনের নির্দিষ্ট তুলনা কোনো নির্ভরযোগ্য গবেষণার উৎস ছাড়া সাধারণ সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত কোন খাতে কত বিনিয়োগে কত উৎপাদন, কত কর্মসংস্থান এবং কত আয় সৃষ্টি হচ্ছে, তা তথ্য দিয়ে পরিমাপ করা।

দক্ষতা উন্নয়নকে ভাতার বিকল্প নয়, বিনিয়োগ হিসেবে দেখা

শুধু নগদ সহায়তা মানুষকে সাময়িকভাবে টিকিয়ে রাখতে পারে। কিন্তু দক্ষতা একজন মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে আয় করার সক্ষমতা দিতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিং, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, ওয়েল্ডিং, মেশিন পরিচালনা, আধুনিক কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মোবাইল সার্ভিসিং কিংবা অন্যান্য বাজারচাহিদাসম্পন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ এসব ক্ষেত্রে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো যেতে পারে।

তবে প্রশিক্ষণের সঙ্গে বাজারের বাস্তব চাহিদার মিল থাকা জরুরি। শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না; প্রশিক্ষণ শেষে কাজ বা বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাও প্রয়োজন।

প্রগতিশীল করব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা

যাদের আয় ও সম্পদ বেশি, তাদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি কর নেওয়ার ধারণা বিশ্বজুড়েই করনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।

সম্পদ কর, উত্তরাধিকার কর, উচ্চ আয়ের ওপর কার্যকর কর আদায়—এসব নিয়ে বাংলাদেশেও তথ্যভিত্তিক আলোচনা হতে পারে।

তবে নতুন কর আরোপের পাশাপাশি কর প্রশাসনের সক্ষমতা, কর ফাঁকি বন্ধ, ডিজিটাল করব্যবস্থা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের রাজস্ব বাড়াতে কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণ, VAT ও আয়কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

উন্নয়নের নতুন সংজ্ঞা দরকার

বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু ‘কত শতাংশ GDP বাড়ল’ এই প্রশ্ন নয়।

প্রশ্ন হওয়া উচিত

একজন গ্রামের কৃষকের আয় কতটা বাড়ল?

একজন পোশাকশ্রমিকের জীবন কতটা নিরাপদ হলো?

একজন তরুণ দেশে থেকেই দক্ষতা অনুযায়ী কাজ পেল কি না?

একজন নারী উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে ন্যায্য ঋণ পেলেন কি না?

একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান ভালো শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পেল কি না?

কারণ অর্থনীতির প্রকৃত সাফল্য শুধু বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধিতে নয়; সেই প্রবৃদ্ধি মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আনল, তার মধ্যেও নিহিত।

বাংলাদেশে বৈষম্য নিয়ে আলোচনা তাই ধনী বনাম গরিবের লড়াই হিসেবে দেখার চেয়ে সুযোগের সমতা, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, ন্যায্য করব্যবস্থা এবং সবার জন্য অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ হিসেবে দেখা বেশি কার্যকর হতে পারে।

অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্যই।

অর্থনীতি শুধু জিডিপির অংক নয়; অর্থনীতি হলো রিকশাওয়ালার ঘামে তার সন্তানের স্কুলের বেতন জোগাড় হওয়ার গল্প। সেই গল্পটা নিশ্চিত করতে পারলেই উন্নয়ন সার্থক।

তথ্যসূত্রঃ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর HIES 2022, বিশ্বব্যাংক, Oxfam এবং বাংলাদেশ-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক গবেষণা/নীতিপত্র ব্যবহার করে সংখ্যাগুলো যাচাই করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আয়বৈষম্যের ক্ষেত্রে HIES 2022-এর সরকারি পরিসংখ্যানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

[atn_photocard]
আরও