×
×
Thursday, 17 September, 2026, 10:17 pm


ইসলামী ব্যাংক দখল: এক নজিরবিহীন ঘটনার পূর্ণচিত্র

২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে। ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেল র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সভা বসে। সেই সভায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই) উপস্থিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় এস আলম গ্রুপের হাতে। এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ইসলামী ব্যাংকের জন্ম ও প্রাথমিক পর্ব

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

১৯৮২-৮৩ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংককরণের সূচনা হয়। আটটি বেসরকারি ব্যাংকের একটি হিসেবে ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ব্যাংকটি নিজেদের দাবি করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে।

আন্তর্জাতিক পটভূমি

সত্তর ও আশির দশকে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রবণতা শুরু হয়। এর পেছনে ছিল ওআইসির ভূমিকা। ১৯৭৩ সালে সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে আইডিবির যাত্রা শুরুর পর দেশে দেশে ইসলামি ব্যাংক গড়ে ওঠে, যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী ব্যাংক।

মালিকানা কাঠামো

২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের ৬৩.১৮ শতাংশ শেয়ার ছিল। বাকি শেয়ার ছিল দেশীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ছিলেন। তাদের দুজন—মীর কাসেম আলী ও আবু নাসের মুহাম্মদ আবদুজ জাহের—জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি হয়। ২০১৫ সালে জাহের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিদেশে যান এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরেছেন।

জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা এবং চাকরিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বিশেষ অগ্রাধিকার সব সময়ই আলোচনায় ছিল।

দখলের পটভূমি

শাহবাগ আন্দোলন ও জামায়াত ইস্যু

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করে। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিলে তা নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয় শাহবাগে। সেই আন্দোলনের সময়ই প্রথম আলোচনা ওঠে, ইসলামী ব্যাংক জামায়াতকে অর্থায়ন করছে বলে।

সরকারের অভিযোগ

২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার কমিটির সভা শেষে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু সাংবাদিকদের বলেন, “ইসলামী ব্যাংক তাদের লভ্যাংশের ৮ শতাংশ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় করছে।” তবে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরে জানান, ব্যাংকটি দখলের চেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব কথা বলা হয়েছিল।

দখলের প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা

২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়। ব্যাংকের তৎকালীন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, সরকার ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চাপ দিয়েছিল। তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান চেয়েছিলেন ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি যেন না হয়, কারণ দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থনীতি বিপাকে পড়তে পারে।

শেয়ার কেনাকাটা

২০১৬ সালের শুরুতেই ইউনাইটেড গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনে। পরে তা এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড বিজনেস লিমিটেডের নামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেড, আরমাডা স্পিনিং মিল লিমিটেড, এবিসি ভেঞ্চার্স লিমিটেড, প্ল্যাটিনাম এন্ডেভারস, প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও ব্লু ইন্টারন্যাশনালের নামেও শেয়ার কেনা হয়।

ঋণ সীমা লঙ্ঘন

২০১৬ সালে এস আলম গ্রুপ ছিল ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ গ্রাহক। ওই সময় ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠানের ঋণ ছিল তিন হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক কোনো ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে নিজের মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের ঋণ ইতিমধ্যে সেই সীমা ছুঁয়ে ফেলেছিল।

তবুও নতুন করে ঋণের আবেদন করে এস আলম। ইসলামী ব্যাংক তা নাকচ করে দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান ব্যাংকের এমডি আবদুল মান্নানকে ডেকে বলেন, “এস আলমকে আরও ঋণ দিতে সরকার থেকে বলা হয়েছে। ব্যাংক বাঁচাতে চাইলে টাকা দিতেই হবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ ঋণসীমার শর্ত শিথিল করে এস আলমকে ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। এরপর ইসলামী ব্যাংক এস আলমকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ অনুমোদন করে।

সালমান এফ রহমান ও সাইফুল আলমের কথোপকথন

গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি দখলের দিন ভোরে বনানীর একটি মসজিদে সাইফুল আলমের সঙ্গে দেখা করেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি সাইফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বেক্সিমকোকে দেওয়ার কথা বলেন, কিন্তু সাইফুল আলম রাজি হননি। সালমান এফ রহমান সরকারের উচ্চপর্যায়কে ‘ম্যানেজ’ করার কথাও বলেন, কিন্তু সাইফুল আলম জানান, বিষয়টি ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করছে।

ডিজিএফআই ‘প্রযোজিত’ পর্ষদ সভা

সভার পূর্বাভাস

৪ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে রাত ১০টা পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি সভা চলে। সভা শেষে ডিজিএফআই থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মান্নানের ফোনে আসে পরের দিনের পর্ষদ সভা হবে র্যাডিসনে, মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে নয়।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সভার জন্য কোনো কক্ষ ফাঁকা নেই। ডিজিএফআই বলল, কক্ষের ব্যবস্থা তারা করবে।

ডিজিএফআই কার্যালয়ে জোরজবরদস্তি

সেদিন সকালে চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ার, ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক ও এমডি আবদুল মান্নান বাসা থেকে সভাস্থলের দিকে রওনা হলে তাদের ডিজিএফআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।

ডিজিএফআই কার্যালয়ে এমডি আবদুল মান্নানকে তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে পূর্বে লেখা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। আবদুল মান্নানকে সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়।

আবদুল মান্নান পরে দেশ ছেড়েছিলেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর দেশে ফিরে এসে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাকে ধরে নিয়ে একটি প্যাডে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়। যেখানে আগে থেকে পদত্যাগের বিষয়টি লেখা ছিল। সেই প্যাড ইসলামী ব্যাংকের ছিল না। এই ঘটনার পর থেকে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।”

হোটেলের ঘটনাপ্রবাহ

সেদিন দুপুরে পর্ষদ সভা শুরুর আগে পাঁচ-ছয়জন গোয়েন্দা কর্মকর্তা সবার মুঠোফোন কেড়ে নেন। সকালে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সভাও হয় ওই হোটেলের দ্বিতীয় তলায়। সেটি চলাকালেই ডিজিএফআই থেকে সভা দ্রুত শেষ করতে তাগাদা দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারকে দেখে নিচু স্বরে জানতে চান, “স্যার, কী অবস্থা?” উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন শুধু দুই শব্দ: “সব শেষ।”

নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর

সভায় হঠাৎ ঢুকে পড়েন ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেন ও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম। চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ার সভায় জানান, তিনি নিজে, ভাইস চেয়ারম্যান ও এমডি পদত্যাগ করেছেন। বলার সময় তাঁর চোখ ছলছল করছিল।

আরাস্তু খানকে নতুন চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলমকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। সাইফুল আলম আরাস্তু খানের হাতে একটি কাগজ দেন, যেখানে এমডি হিসেবে আবদুল হামিদ মিয়ার নাম ঘোষণা করতে বলা হয় যিনি তখন এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউনিয়ন ব্যাংকের এমডি ছিলেন।

অনুমোদনের গল্প

সভা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। রাতেই নতুন নিয়োগের নথিপত্র প্রস্তুত করে রাত ১২টার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় তৎকালীন গভর্নর ফজলে কবিরের বাসভবনে। গভর্নর ফজলে কবির দোতলা থেকে লুঙ্গি পরে নিচে নামেন এবং নথিপত্র নেন। পরের প্রথম কর্মদিবস রোববার সকালে নতুন নিয়োগগুলো অনুমোদন পায়।

ফজলে কবিরকে দুই মেয়াদে গভর্নর পদে রাখতে আইন সংশোধন করে বয়সসীমার শর্ত শিথিল করা হয়েছিল। আলোচনা আছে, এস আলম গ্রুপের প্রভাবের কারণেই তিনি দুই মেয়াদে পদে থাকতে পেরেছিলেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

২০১৭ সালের এপ্রিলে এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। শিরোনাম ছিল “দ্য গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটস আ ক্যু অ্যাট বাংলাদেশ বিগেস্ট ব্যাংক” (সরকারি তৎপরতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক দখল)।

ঘটনার পর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে শেয়ার ছেড়ে দেয় আইডিবি, দুবাই ইসলামি ব্যাংক, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস, আল-রাজি গ্রুপ, সৌদি আরবের আরবসাস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিস্ট এজেন্সিসহ বেশির ভাগ বিদেশি উদ্যোক্তা ও শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বায়তুল শরফ ফাউন্ডেশন, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ও ইসলামিক ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোও শেয়ার ছেড়ে দেয়।

২০১৭ সালে আইডিবির প্রেসিডেন্ট বন্দর এম এইচ হাজ্জার তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে লেখা এক চিঠিতে উদ্বেগ জানিয়ে লিখেছিলেন, “আইডিবিসহ সৌদি আরব, কুয়েতের উদ্যোক্তাদের ৫২ শতাংশ শেয়ার থাকার পরও ব্যাংকটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।”

পরবর্তী পরিস্থিতি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সাইফুল আলম দেশে ফিরছেন না নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন। তবে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের প্রায় ৮২ শতাংশ এখনো নামে ও বেনামে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে। শেয়ারগুলো আপাতত বাংলাদেশ ব্যাংক জব্দ করে রেখেছে। ব্যাংকটি পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালকেরা।

এদিকে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন সংশোধন করে পুরোনো মালিকদের ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার পর ব্যাংক দখলের কাহিনি আবার আলোচনায় এসেছে।

ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক আকবর হোসেন এখন পলাতক। গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে। সাবেক গভর্নর ফজলে কবিরকেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে।

বিশ্লেষণ

ইসলামী ব্যাংক দখলের ঘটনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ১৯৯৯ সালের ২৬ আগস্ট অস্ত্রের মুখে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনা ঘটলেও কোনো গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত থেকে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন করিয়েছে এর আগে এমন নজির ছিল না।

এই ঘটনার মাধ্যমে পরিষ্কার হয় যে কীভাবে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সহযোগিতায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের মালিকানা জোরপূর্বক হস্তান্তর করা সম্ভব হয়। ব্যাংকটির পরবর্তী অবস্থা দেখায় যে দখলের উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকের সম্পদ ও গ্রাহক আমানতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ব্যাংকের স্বার্থ নয়।

বর্তমানে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন সংশোধনের মাধ্যমে পুরোনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হলে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন পুনরুদ্ধার এবং অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে প্রয়োজন শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও স্বাধীন তদন্ত।

আরও